অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার সময় যে ভুলগুলো করবেন না
অ্যান্টিবায়োটিক এমন একটি ওষুধ যা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে অনেক মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করেন অথবা ওষুধ খাওয়ার নিয়ম ঠিকভাবে অনুসরণ করেন না। এর ফলে রোগ সম্পূর্ণ ভালো না হওয়ার পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের মতো গুরুতর সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা এবং মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
সবচেয়ে বড় ভুল হলো চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া। অনেকেই সর্দি, কাশি বা ভাইরাসজনিত জ্বরের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করে দেন। কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না। ফলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ওষুধ খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
অনেক রোগী কয়েকদিন ওষুধ খাওয়ার পর সুস্থ বোধ করলে অ্যান্টিবায়োটিক বন্ধ করে দেন। এটি একটি বড় ভুল। চিকিৎসক যতদিন ওষুধ খেতে বলেছেন, ততদিন সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করা উচিত। মাঝপথে ওষুধ বন্ধ করলে কিছু ব্যাকটেরিয়া বেঁচে যেতে পারে এবং পরবর্তীতে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।
অন্যের জন্য প্রেসক্রাইব করা অ্যান্টিবায়োটিক নিজের জন্য ব্যবহার করাও বিপজ্জনক। একই ধরনের উপসর্গ থাকলেও রোগের কারণ ভিন্ন হতে পারে। তাই অন্যের ওষুধ দেখে নিজের চিকিৎসা করা উচিত নয়।
অনেকেই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার নির্ধারিত সময় মেনে চলেন না। কোনো কোনো ওষুধ ৮ ঘণ্টা পরপর, কোনোটি ১২ ঘণ্টা পরপর এবং কোনোটি দিনে একবার খেতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ে ওষুধ না খেলে শরীরে ওষুধের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
ডোজ মিস হয়ে গেলে অনেকেই পরের বার দ্বিগুণ ডোজ খেয়ে ফেলেন। এটি ঠিক নয়। ডোজ মিস হলে যত দ্রুত সম্ভব মনে পড়ে ওষুধ খেতে হবে। তবে পরবর্তী ডোজের সময় কাছাকাছি হলে মিস করা ডোজ বাদ দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে।
কিছু অ্যান্টিবায়োটিক খাবারের আগে খেতে হয়, আবার কিছু খাবারের পরে। এই নির্দেশনা না মানলে ওষুধের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে অথবা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেড়ে যেতে পারে। তাই প্রেসক্রিপশন বা ওষুধের নির্দেশিকা ভালোভাবে পড়ে নেওয়া জরুরি।
অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। এতে ওষুধ শরীরে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে এবং কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি কমায়।
অনেক মানুষ অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও চিকিৎসককে না জানিয়ে ওষুধ বন্ধ করে দেন। হালকা বমিভাব, ডায়রিয়া বা পেটের অস্বস্তি কিছু ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে। তবে শ্বাসকষ্ট, তীব্র র্যাশ বা মুখ ফুলে যাওয়ার মতো অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করাও একটি সাধারণ ভুল। মেয়াদ শেষ হওয়া ওষুধ কার্যকারিতা হারাতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিকরও হতে পারে। তাই ওষুধ সেবনের আগে অবশ্যই মেয়াদ যাচাই করা উচিত।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। অপ্রয়োজনীয় বা ভুলভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে অনেক ব্যাকটেরিয়া সাধারণ ওষুধে আর সাড়া দেয় না। ফলে ভবিষ্যতে সাধারণ সংক্রমণের চিকিৎসাও কঠিন হয়ে যেতে পারে।
অ্যান্টিবায়োটিক জীবন রক্ষাকারী ওষুধ হলেও এটি অবশ্যই সঠিক নিয়মে ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক শুরু না করা, নির্ধারিত ডোজ ও সময় মেনে চলা, সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করা এবং অন্যের ওষুধ ব্যবহার না করার মতো অভ্যাস আপনাকে ও আপনার পরিবারকে নিরাপদ রাখতে সাহায্য করবে।






