জেনে নিন কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষণ কি কি? ও প্রতিরোধ

জেনে নিন কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষণ কি কি.? ও প্রতিরোধ :

বর্তমানে কিডনিতে পাথর বা Kidney Stone একটি খুবই সাধারণ কিন্তু কষ্টদায়ক স্বাস্থ্য সমস্যা। আগে এই রোগ সাধারণত বয়স বেশি মানুষের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও এখন তরুণদের মধ্যেও এর প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। অনিয়মিত জীবনযাপন, কম পানি পান করা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে এই রোগের ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে। কিডনির ভেতরে বিভিন্ন খনিজ ও লবণ জমে ছোট ছোট শক্ত কণায় পরিণত হলে তাকে কিডনির পাথর বলা হয়।

কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষণ কি কি

প্রথম অবস্থায় এটি ছোট থাকলেও সময়ের সঙ্গে বড় হয়ে জটিল সমস্যা তৈরি করতে পারে।কিডনিতে পাথর হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো তীব্র ব্যথা। এই ব্যথা সাধারণত কোমরের এক পাশ থেকে শুরু হয়ে পেটের নিচের অংশ বা কুঁচকি পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে। অনেক সময় ব্যথা হঠাৎ শুরু হয় এবং খুব দ্রুত অসহনীয় হয়ে ওঠে। কেউ কেউ এই ব্যথাকে প্রসব ব্যথার চেয়েও বেশি কষ্টদায়ক বলে বর্ণনা করেন। পাথর যখন প্রস্রাবের নালিতে আটকে যায় তখন ব্যথা আরও বেড়ে যায় এবং রোগী অস্থির হয়ে পড়তে পারেন।অনেক রোগীর প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হয়। প্রস্রাব করার সময় ব্যথা অনুভূত হতে পারে এবং প্রস্রাবের রঙ লালচে বা বাদামি হয়ে যেতে পারে। এটি সাধারণত প্রস্রাবে রক্ত যাওয়ার কারণে হয়। এছাড়া প্রস্রাব ঘোলা হওয়া, দুর্গন্ধ হওয়া বা ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ অনুভব করাও কিডনিতে পাথরের লক্ষণ হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে প্রস্রাব খুব অল্প পরিমাণে হয়, যা কিডনির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।কিডনিতে পাথর হলে অনেক সময় বমি বমি ভাব, বমি এবং দুর্বলতা দেখা দেয়। যদি ইনফেকশন যুক্ত হয় তাহলে জ্বর ও কাঁপুনিও হতে পারে। জ্বরের সঙ্গে কোমর ব্যথা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ তখন সংক্রমণ কিডনিতে ছড়িয়ে যেতে পারে, যা মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে।

এই রোগ হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো কম পানি পান করা। যখন শরীরে পর্যাপ্ত পানি থাকে না, তখন প্রস্রাব ঘন হয়ে যায় এবং খনিজ পদার্থ জমে পাথর তৈরি হয়। বিশেষ করে যারা গরম পরিবেশে কাজ করেন বা সারাদিন খুব কম পানি পান করেন তাদের ঝুঁকি বেশি থাকে। এছাড়া অতিরিক্ত ঘামের কারণেও শরীর পানিশূন্য হয়ে যেতে পারে।খাদ্যাভ্যাসও কিডনিতে পাথর হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। অতিরিক্ত লবণ, ফাস্টফুড, কোমল পানীয় এবং অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার কিডনির উপর চাপ সৃষ্টি করে। বেশি প্রাণিজ প্রোটিন যেমন গরুর মাংস, খাসির মাংস বা অতিরিক্ত ডিম খাওয়ার কারণেও পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। অনেক সময় অতিরিক্ত চা-কফি পান করাও সমস্যার কারণ হতে পারে।পারিবারিক ইতিহাস থাকলেও কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। অর্থাৎ পরিবারের কারও আগে এই রোগ থাকলে অন্য সদস্যদের মধ্যেও এটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এছাড়া ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্থূলতার মতো সমস্যাও কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।কিডনিতে পাথর প্রতিরোধের সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায় হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। একজন সুস্থ মানুষের দিনে অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা উচিত। এতে শরীরের ক্ষতিকর উপাদান সহজেই প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায় এবং পাথর তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমে। গরমের দিনে বা বেশি পরিশ্রম করলে আরও বেশি পানি পান করা প্রয়োজন।স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও খুব গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত লবণ ও কোমল পানীয় কম খেতে হবে। ফাস্টফুড, চিপস এবং অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার যত কম খাওয়া যায় তত ভালো। নিয়মিত শাকসবজি ও ফলমূল খেলে কিডনি ভালো থাকে। বিশেষ করে লেবু জাতীয় ফলে থাকা সাইট্রেট অনেক সময় পাথর তৈরি প্রতিরোধে সাহায্য করে।নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাও জরুরি। অতিরিক্ত ওজন কিডনির ওপর চাপ বাড়ায়। তাই প্রতিদিন কিছু সময় হাঁটা বা ব্যায়াম করা ভালো অভ্যাস। একই সঙ্গে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে সেগুলোও নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন।অনেকেই ব্যথা কমে গেলে চিকিৎসা বন্ধ করে দেন, যা একেবারেই ঠিক নয়। কারণ ছোট পাথর ভবিষ্যতে বড় হয়ে কিডনির ক্ষতি করতে পারে। তাই কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বর্তমানে আল্ট্রাসনোগ্রাম, এক্স-রে এবং বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই কিডনিতে পাথর শনাক্ত করা যায়।সঠিক সময়ে সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন, স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করুন। নিজের কিডনির যত্ন নিন, কারণ সুস্থ কিডনি সুস্থ জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Scroll to Top