ডায়াবেটিসের শুরুর ১০ লক্ষণ

ডায়াবেটিসের শুরুর ১০ লক্ষণ, যা অনেকেই বুঝতে পারেন না

ডায়াবেটিস বাড়ার শুরুর লক্ষণ: অবহেলা করলে হতে পারে বড় সমস্যা
বর্তমানে ডায়াবেটিস শুধু বয়স্কদের রোগ নয়, তরুণদের মধ্যেও দ্রুত বাড়ছে। অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত ফাস্টফুড খাওয়া, কম ঘুম, মানসিক চাপ এবং শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়ার কারণে অনেকেই অল্প বয়সে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন। সমস্যা হলো, রোগটি শুরুতে খুব নীরবে শরীরে প্রভাব ফেলে। অনেক মানুষ দীর্ঘদিন বুঝতেই পারেন না যে তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ছে। কিন্তু শরীর আগে থেকেই কিছু সংকেত দিতে শুরু করে। এই লক্ষণগুলো সময়মতো বুঝতে পারলে দ্রুত পরীক্ষা করে রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।


ডায়াবেটিস মূলত তখন হয় যখন শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না অথবা ইনসুলিন ঠিকভাবে কাজ করে না। ইনসুলিনের কাজ হলো রক্তের গ্লুকোজকে শরীরের কোষে পৌঁছে দেওয়া, যাতে তা শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় সমস্যা হলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায় এবং ধীরে ধীরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে শুরু করে।
ডায়াবেটিসের সবচেয়ে সাধারণ শুরুর লক্ষণগুলোর মধ্যে একটি হলো ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া। বিশেষ করে রাতে বারবার টয়লেটে যেতে হলে সতর্ক হওয়া উচিত। রক্তে অতিরিক্ত চিনি জমে গেলে কিডনি তা শরীর থেকে বের করার চেষ্টা করে। ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর পাশাপাশি শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যাওয়ার কারণে অনেক বেশি পিপাসা অনুভূত হয়। অনেকে বারবার পানি পান করার পরও মুখ শুকিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা অনুভব করেন।
এছাড়া অনেকের অস্বাভাবিকভাবে ক্ষুধা বেড়ে যায়। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই আবার ক্ষুধা লাগে। কারণ শরীর রক্তে থাকা গ্লুকোজকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না। ফলে শরীর শক্তির ঘাটতিতে ভোগে এবং বারবার খাবারের চাহিদা তৈরি হয়। একই সঙ্গে হঠাৎ ওজন কমে যাওয়াও ডায়াবেটিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। নিয়মিত খাবার খাওয়ার পরও যদি দ্রুত ওজন কমতে থাকে, তাহলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়।
ডায়াবেটিসের শুরুতে অনেকেই সবসময় ক্লান্তি অনুভব করেন। সামান্য কাজ করলেও শরীর দুর্বল লাগে, কাজে মনোযোগ কমে যায় এবং সবসময় ঘুম ঘুম ভাব থাকে। কারণ শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি ঠিকভাবে তৈরি করতে পারে না। এ ছাড়া চোখে ঝাপসা দেখা, মাথা ঘোরা বা মনোযোগ কমে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। অনেক সময় মানুষ এটিকে সাধারণ দুর্বলতা ভেবে এড়িয়ে যান, কিন্তু এটি রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।


শরীরের ছোট ক্ষত শুকাতে বেশি সময় লাগাও ডায়াবেটিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। কাটা বা ঘা সহজে ভালো না হলে কিংবা বারবার ত্বকে সংক্রমণ হলে দ্রুত পরীক্ষা করা উচিত। বিশেষ করে ত্বকে চুলকানি, ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা শরীরের ভাঁজে লালচে দাগ দেখা দিলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। অনেকের হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশ ভাবও হতে পারে, কারণ দীর্ঘদিন রক্তে অতিরিক্ত শর্করা থাকলে স্নায়ুর ওপর প্রভাব পড়ে।
চিকিৎসকদের মতে, যাদের পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে, যাদের ওজন বেশি, উচ্চ রক্তচাপ আছে অথবা যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন না তাদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তাই বছরে অন্তত একবার রক্তে শর্করার পরীক্ষা করা ভালো। বিশেষ করে বয়স ৩০ পার হলে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
ডায়াবেটিস পুরোপুরি নির্মূল করা না গেলেও জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এনে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করা, অতিরিক্ত চিনি ও কোমল পানীয় এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ধূমপান ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার কম খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে অনেক মানুষ ডায়াবেটিসকে সাধারণ রোগ ভেবে অবহেলা করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে এটি হৃদরোগ, কিডনি সমস্যা, চোখের ক্ষতি এবং স্নায়ুর জটিলতার কারণ হতে পারে। তাই শরীরের ছোট ছোট পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। সময়মতো পরীক্ষা ও সচেতনতাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

শুরুতে যদি আমরা বুঝতে পারি আমরা ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত তাহলে আমাদের সমস্যাটা খুবই কম হবে খুব দ্রুত ডাক্তারের কাছে চলে যাবেন এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রুটিন অনুযায়ী ওষুধ খাবেন এবং লাইফস্টাইল পরিবর্তন করবেন, তাহলে তার কোন সমস্যা হবে না সুস্থ থাকতে পারবেন। আর যদি অবহেলা করেন তাহলে হতে পারে মারাত্মক বিপদ। তাই কোন রোগ নিয়ে অবহেলা করবেন না দ্রুত ডাক্তারের কাছে চলে যাবেন। আর খাবার দাবার খুবই রুটিন করে চলবেন।

Scroll to Top