কনডম ব্যবহারের ১০টি সাধারণ ভুল – যা গর্ভধারণ ও যৌনরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে
কনডম অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ প্রতিরোধ এবং অনেক যৌনবাহিত সংক্রমণ (STI) থেকে সুরক্ষার অন্যতম কার্যকর উপায়। তবে সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে এর কার্যকারিতা অনেকটাই কমে যেতে পারে। নিচে কনডম ব্যবহারের ১০টি সাধারণ ভুল তুলে ধরা হলো।
১. মেয়াদোত্তীর্ণ (Expired) কনডম ব্যবহার
ব্যবহারের আগে অবশ্যই উৎপাদন ও মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ দেখে নিন। মেয়াদোত্তীর্ণ কনডম সহজেই ছিঁড়ে যেতে পারে।
২. প্যাকেট ভুলভাবে খোলা
দাঁত, কাঁচি বা ধারালো কোনো বস্তু দিয়ে প্যাকেট খুললে কনডম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। হাতে আলতোভাবে খুলুন।
৩. সহবাস শুরু হওয়ার পরে কনডম পরা
সহবাস শুরু করার আগেই কনডম পরতে হবে। কারণ বীর্যপাতের আগেও কিছু তরলে শুক্রাণু বা সংক্রমণকারী জীবাণু থাকতে পারে।
৪. ভুলভাবে কনডম পরা
কনডমের মাথায় সামান্য জায়গা (Reservoir Tip) রেখে বাতাস বের করে পরুন। এতে ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
৫. তেলজাতীয় লুব্রিকেন্ট ব্যবহার
ল্যাটেক্স কনডমের সঙ্গে ভ্যাসলিন, বেবি অয়েল বা নারিকেল তেল ব্যবহার করবেন না। এগুলো কনডম দুর্বল করে দিতে পারে। প্রয়োজনে পানি-ভিত্তিক বা সিলিকন-ভিত্তিক লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করুন।
৬. একই কনডম পুনরায় ব্যবহার
একটি কনডম শুধুমাত্র একবার ব্যবহারযোগ্য। পুনরায় ব্যবহার করলে কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়।
৭. দুটি কনডম একসঙ্গে ব্যবহার
অনেকে অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য দুটি কনডম ব্যবহার করেন। এতে ঘর্ষণ বেড়ে কনডম ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
৮. ভুলভাবে সংরক্ষণ
দীর্ঘদিন মানিব্যাগে রাখা, অতিরিক্ত গরম বা রোদে রাখলে কনডমের গুণগত মান নষ্ট হতে পারে। ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন।
৯. সহবাস শেষে দেরিতে খুলে ফেলা
বীর্যপাতের পর লিঙ্গ শিথিল হওয়ার আগেই কনডমের গোড়া ধরে সাবধানে খুলে ফেলুন, যাতে বীর্য বাইরে না বের হয়।
১০. প্রতিবার নতুন কনডম ব্যবহার না করা
প্রতিটি সহবাসের জন্য নতুন কনডম ব্যবহার করুন। একই কনডম বারবার ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।
কনডম সঠিকভাবে ব্যবহার করলে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের ঝুঁকি অনেক কমে এবং অনেক যৌনবাহিত সংক্রমণ থেকেও সুরক্ষা পাওয়া যায়। তাই প্রতিবার সঠিক নিয়ম মেনে কনডম ব্যবহার করুন।
সতর্কতা: কনডম ১০০% সুরক্ষা নিশ্চিত করে না, তবে সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি অত্যন্ত কার্যকর একটি জন্মনিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা পদ্ধতি।

