বিশ্বকাপ ২০২৬: আপনার মতে চ্যাম্পিয়ন কে হবে—আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল নাকি অন্য কোনো দল?
বিশ্বকাপ ২০২৬ চ্যাম্পিয়ন কে হবে
ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই কোটি কোটি মানুষের আবেগ, উন্মাদনা এবং অসংখ্য ভবিষ্যদ্বাণী। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন হলো—এবার চ্যাম্পিয়ন হবে কে? বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কি আবারও শিরোপা ধরে রাখতে পারবে, নাকি ব্রাজিল দীর্ঘ ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাবে? নাকি ফ্রান্স, স্পেন কিংবা ইংল্যান্ডের মতো ইউরোপীয় শক্তিধর দল ট্রফি জিতে সবাইকে চমকে দেবে?
আর্জেন্টিনা: শিরোপা ধরে রাখার মিশন
২০২২ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারও অন্যতম ফেভারিট হিসেবে মাঠে নেমেছে। দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড এবং কোচ লিওনেল স্কালোনির কৌশলী নেতৃত্ব। সাম্প্রতিক ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও আর্জেন্টিনা শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে আর্জেন্টিনার সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। দলের বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় বয়সের ভারে কিছুটা ধীর হয়ে পড়েছেন। এছাড়া টানা দুই বিশ্বকাপ জেতা ইতিহাসে খুবই বিরল ঘটনা। তবুও লাউতারো মার্টিনেজ, জুলিয়ান আলভারেজ এবং তরুণ প্রতিভাদের উপস্থিতি দলটিকে এখনও ভয়ংকর প্রতিপক্ষ বানিয়ে রেখেছে।
ব্রাজিল: ষষ্ঠ শিরোপার স্বপ্ন
বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল। কিন্তু ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ জেতা হয়নি সেলেসাওদের। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছে তারা।
নতুন কোচ Carlo Ancelotti-এর অধীনে ব্রাজিল নতুন রূপে নিজেদের গড়ে তুলেছে। গোলরক্ষক Alisson Becker এবং তার সতীর্থরা বিশ্বাস করেন, দলটি আগের চেয়ে অনেক বেশি সংগঠিত ও প্রস্তুত।
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো, এন্ড্রিকদের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া আক্রমণভাগ যেকোনো দলের জন্য বড় হুমকি। অনেক বিশ্লেষকও মনে করছেন, ব্রাজিল এবার শিরোপার অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার।
ফ্রান্স: সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল?
যখন বিশ্বকাপ ফেভারিটদের তালিকা করা হয়, তখন ফ্রান্সের নাম সবার আগে আসে। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে গড়ে ওঠা দলটি গত দুটি বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলেছে। অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক এবং ক্রীড়া সাংবাদিক ২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সকেই সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনা করছেন।
ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের বেঞ্চের গভীরতা। মূল একাদশের বাইরে থাকা অনেক খেলোয়াড়ও বিশ্বের সেরা ক্লাবগুলোতে নিয়মিত খেলেন। তাই ইনজুরি বা নিষেধাজ্ঞা তাদের খুব বেশি সমস্যায় ফেলতে পারে না।
স্পেন: নীরব ফেভারিট
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্পেনের ফুটবল আবারও উত্থানের পথে। তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে ঘিরে নতুন প্রজন্মের একটি দুর্দান্ত দল গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জরিপ, বিশেষজ্ঞ মতামত এবং বুকমেকারদের বিশ্লেষণে স্পেনকে অন্যতম শীর্ষ ফেভারিট ধরা হচ্ছে।
বিশ্বকাপ ২০২৬ চ্যাম্পিয়ন কে হবে
স্পেনের পাসিং ফুটবল, বলের দখল ধরে রাখার ক্ষমতা এবং তরুণদের গতিশীলতা তাদেরকে যেকোনো ম্যাচে এগিয়ে রাখে।
ইংল্যান্ড ও পর্তুগাল কি চমক দেখাবে?
ইংল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিভাবান খেলোয়াড়ে ভরপুর একটি দল। হ্যারি কেন, জুড বেলিংহামসহ বেশ কয়েকজন বিশ্বমানের ফুটবলার তাদের স্কোয়াডে রয়েছেন। অন্যদিকে পর্তুগালও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করতে চাইবে।
তবে নকআউট পর্বে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এই দুই দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
আমার পূর্বাভাস
যদি বর্তমান ফর্ম, স্কোয়াডের গভীরতা, কোচিং এবং বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা হয়, তাহলে চারটি দলকে সবচেয়ে এগিয়ে রাখতে হয়—
১. ফ্রান্স
২. ব্রাজিল
৩. আর্জেন্টিনা
৪. স্পেন
আমার মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ব্রাজিল ও ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। আর যদি একটি দলকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বেছে নিতে হয়, তাহলে আমি সামান্য ব্যবধানে ব্রাজিলকে এগিয়ে রাখব। নতুন কোচ, শক্তিশালী আক্রমণভাগ এবং শিরোপার দীর্ঘ অপেক্ষা—সবকিছু মিলিয়ে এবার সেলেসাওদের হাতে ট্রফি ওঠার সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল।
তবে ফুটবল এমন একটি খেলা যেখানে এক মুহূর্তেই সব হিসাব বদলে যেতে পারে। ২০২২ সালে যেমন অনেকেই আর্জেন্টিনাকে নিয়ে সন্দিহান ছিলেন, তেমনি এবারও কোনো অপ্রত্যাশিত দল চমক দেখাতে পারে। তাই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা না গেলেও একটি বিষয় নিশ্চিত—২০২৬ বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর আসর।
আর্জেন্টিনা তাদের মুকুট রক্ষা করতে চায়, ব্রাজিল হারানো গৌরব ফিরে পেতে চায়, ফ্রান্স আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে চায়, আর স্পেন ও ইংল্যান্ড নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে। শেষ পর্যন্ত ট্রফি কার হাতে উঠবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য একটি বিষয় নিশ্চিত—বিশ্বকাপ ২০২৬ আমাদের সামনে অসাধারণ কিছু ম্যাচ এবং স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিতে চলেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপগুলোর মধ্যে একটি।

